আসরের নামাজ – ASORER NAMAZ
আছরের নামাজ মোট ৮ রাকাত
- সুন্নাত নামাজ ০৪ রাকাত (আগে – সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা)
- ফরজ নামাজ ০৪ রাকাত
সতর্কতা সূর্য যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে ডুবতে শুরু করে (সূর্যাস্তের ঠিক আগ মুহূর্ত), তখন আছরের নামাজ পড়া মাকরুহ। তবে কোনো কারণে দেরি হয়ে গেলে সূর্য ডোবার আগে পর্যন্ত ফরজ নামাজ আদায় করা যায়। সূর্যাস্তের সময় সব ধরনের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।
গুরুত্ব: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাজ অর্থাৎ আছরের নামাজের হেফাজত করার নির্দেশ দিয়েছেন। দিনের এই সময়ে কাজের ব্যস্ততা বেশি থাকলেও নামাজ আদায় করা ঈমানের বড় পরীক্ষা।
নামাজের নিয়ত
৪ রাকাআত ফরজ
বাংলায় উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাাহি তা’আলা আরবা’আ রাকাআতাই সালাতিল আসরি ফারজুল্লাাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাাহু আকবার।
সহজ অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে আছরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।
-
(যদি ইমামের পেছনে পড়েন, তবে বলবেন: “এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে…”)
সহজ টিপস: অনেকে আরবি নিয়ত মনে রাখতে পারেন না। তাদের জন্য পরামর্শ হলো— মনে মনে শুধু এইটুকু বললেই হবে: “আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে আছরের (সুন্নাত/ফরজ) নামাজ আদায় করছি।“ এটাই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট।
৪ রাকাআত ফরজ
বাংলায় উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাাহি তা’আলা আরবা’আ রাকাআতাই সালাতিল আসরি ফারজুল্লাাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাাহু আকবার।
সহজ অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে আছরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।
-
(যদি ইমামের পেছনে পড়েন, তবে বলবেন: “এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে…”)
সহজ টিপস: অনেকে আরবি নিয়ত মনে রাখতে পারেন না। তাদের জন্য পরামর্শ হলো— মনে মনে শুধু এইটুকু বললেই হবে: “আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে আছরের (সুন্নাত/ফরজ) নামাজ আদায় করছি।“ এটাই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট।
আছরের নামাজের গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আছরের নামাজ ছেড়ে দেয়, তার আমলসমূহ নষ্ট হয়ে যায়।” (সহীহ বুখারী)। এছাড়াও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, যারা সূর্যোদয়ের আগের নামাজ (ফজর) এবং সূর্যাস্তের আগের নামাজ (আসর) নিয়মিত পড়বে। তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
আছরের নামাজের অসাধারণ কিছু সুফল
আছরের নামাজ মুমিনের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এর কিছু বিশেষ সুফল হলো।
-
বিশেষ সওয়াব ও জান্নাত লাভ
আসর নামাজকে ‘সালাতুল উস্তা’ বা মধ্যবর্তী নামাজ বলা হয়। এর বিশেষ গুরুত্বের কারণে এটি নিয়মিত আদায়কারীকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
-
ফেরেশতাদের পালাবদল ও সাক্ষ্য
হাদিস অনুযায়ী, আসর ও ফজরের সময় ফেরেশতাদের ডিউটি পরিবর্তন হয়। আসরের সময় ফেরেশতারা যখন আল্লাহর কাছে ফিরে যান, তখন আল্লাহ তাদের জিজ্ঞেস করেন আমার বান্দাকে কী অবস্থায় রেখে এলে? ফেরেশতারা বলেন, “আমরা তাকে নামাজ পড়া অবস্থায় রেখে এসেছি।”
-
গুনাহ থেকে পবিত্রতা
আছরের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দার পূর্ববর্তী ছোটখাটো গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
-
কাজের বরকত ও মানসিক প্রশান্তি
সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে যখন একজন মুমিন আছরের নামাজে দাঁড়ায়, তখন তার ক্লান্তি দূর হয় এবং হৃদয়ে এক বিশেষ প্রশান্তি অনুভব করে।
-
হাশরের ময়দানে নূর
নিয়মিত আছর নামাজ আদায়কারীদের জন্য হাশরের কঠিন দিনে বিশেষ নূরের ব্যবস্থা থাকবে যা তাদের পথ চলতে সাহায্য করবে।