এশার নামাজ – ESHAR NAMAZ
এশার নামাজ মোট ১৫ রাকাআত
- সুন্নাত নামাজ ০৪ রাকাআত (আগে – সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা)
- ফরজ নামাজ ০৪ রাকাআত
- সুন্নাত নামাজ ০২ রাকাআত (পরে – সুন্নতে মুয়াক্কাদা)
- নফল নামাজ ০২ রাকাআত
- বিতর নামাজ ০৩ রাকাআত (ওয়াজিব)
সতর্কতা: মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর এশার ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত থাকে। তবে মধ্যরাতের (রাত ১২টার) আগে নামাজ পড়ে নেওয়া উত্তম। বিনা কারণে মধ্যরাতের পরে নামাজ পড়া মাকরুহ।
গুরুত্ব: এশার নামাজ দিনের শেষ ফরজ ইবাদত। সারা দিনের ক্লান্তি উপেক্ষা করে আল্লাহর সান্নিধ্যে দাঁড়ানো ঈমানের গভীরতা প্রকাশ করে।
নামাজের নিয়ত
৪ রাকাত সুন্নাত (আগে – সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা)
বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাাহি তা’আলা আরবা’আ রাকাআতাই সালাতিল ইশা-ই সুন্নাতু রাসূলিল্লাাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাাহু আকবার।
সহজ অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে এশার চার রাকাত সুন্নাত নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।
সহজ টিপস
নিয়ত মূলত মনের সংকল্প: আপনি যদি মুখে এই আরবি বা বাংলা শব্দগুলো উচ্চারণ করতে না পারেন। তবে কোনো সমস্যা নেই। আপনি কোন নামাজ পড়ছেন এবং কত রাকাত পড়ছেন—মনে মনে এই ইচ্ছা বা সংকল্প করলেই আপনার নিয়ত হয়ে যাবে।
ইমামের পেছনে পড়লে: ফরজ নামাজের সময় যদি ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তবে নিয়তের সাথে মনে মনে বলবেন, “এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে…“।
ভাষা কোনো বাধা নয়: আল্লাহ আমাদের মনের ভাষা জানেন। তাই আরবিতে বলতে কষ্ট হলে নিজের ভাষায় মনে মনে নিয়ত করে নামাজ শুরু করে দিন।
৪ রাকাত ফরজ
বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাাহি তা’আলা আরবা’আ রাকাআতাই সালাতিল ইশা-ই ফারজুল্লাাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাাহু আকবার।
সহজ অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে এশার চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।
সহজ টিপস
নিয়ত মূলত মনের সংকল্প: আপনি যদি মুখে এই আরবি বা বাংলা শব্দগুলো উচ্চারণ করতে না পারেন। তবে কোনো সমস্যা নেই। আপনি কোন নামাজ পড়ছেন এবং কত রাকাত পড়ছেন—মনে মনে এই ইচ্ছা বা সংকল্প করলেই আপনার নিয়ত হয়ে যাবে।
ইমামের পেছনে পড়লে: ফরজ নামাজের সময় যদি ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তবে নিয়তের সাথে মনে মনে বলবেন, “এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে…“।
ভাষা কোনো বাধা নয়: আল্লাহ আমাদের মনের ভাষা জানেন। তাই আরবিতে বলতে কষ্ট হলে নিজের ভাষায় মনে মনে নিয়ত করে নামাজ শুরু করে দিন।
২ রাকাত সুন্নাত (পরে – সুন্নতে মুয়াক্কাদা)
বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাাহি তা’আলা রাকআতাই সালাতিল ইশা-ই সুন্নাতু রাসূলিল্লাাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাাহু আকবার।
সহজ অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে এশার দুই রাকাত সুন্নাত নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।
সহজ টিপস
নিয়ত মূলত মনের সংকল্প: আপনি যদি মুখে এই আরবি বা বাংলা শব্দগুলো উচ্চারণ করতে না পারেন। তবে কোনো সমস্যা নেই। আপনি কোন নামাজ পড়ছেন এবং কত রাকাত পড়ছেন—মনে মনে এই ইচ্ছা বা সংকল্প করলেই আপনার নিয়ত হয়ে যাবে।
ইমামের পেছনে পড়লে: ফরজ নামাজের সময় যদি ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তবে নিয়তের সাথে মনে মনে বলবেন, “এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে…“।
ভাষা কোনো বাধা নয়: আল্লাহ আমাদের মনের ভাষা জানেন। তাই আরবিতে বলতে কষ্ট হলে নিজের ভাষায় মনে মনে নিয়ত করে নামাজ শুরু করে দিন।
২ রাকাত নফল
বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাাহি তা’আলা রাকআতাই সালাতিন নাফলি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাাহু আকবার।
সহজ অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।
সহজ টিপস
নিয়ত মূলত মনের সংকল্প: আপনি যদি মুখে এই আরবি বা বাংলা শব্দগুলো উচ্চারণ করতে না পারেন। তবে কোনো সমস্যা নেই। আপনি কোন নামাজ পড়ছেন এবং কত রাকাত পড়ছেন—মনে মনে এই ইচ্ছা বা সংকল্প করলেই আপনার নিয়ত হয়ে যাবে।
ইমামের পেছনে পড়লে: ফরজ নামাজের সময় যদি ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তবে নিয়তের সাথে মনে মনে বলবেন, “এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে…“।
ভাষা কোনো বাধা নয়: আল্লাহ আমাদের মনের ভাষা জানেন। তাই আরবিতে বলতে কষ্ট হলে নিজের ভাষায় মনে মনে নিয়ত করে নামাজ শুরু করে দিন।
৩ রাকাত বিতর (ওয়াজিব)
বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাাহি তা’আলা সালাসা রাকাআতাই সালাতিল বিতরি ওয়াজিবুল্লাাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাাহু আকবার।
সহজ অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে তিন রাকাত বিতর ওয়াজিব নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।
সহজ টিপস
নিয়ত মূলত মনের সংকল্প: আপনি যদি মুখে এই আরবি বা বাংলা শব্দগুলো উচ্চারণ করতে না পারেন। তবে কোনো সমস্যা নেই। আপনি কোন নামাজ পড়ছেন এবং কত রাকাত পড়ছেন—মনে মনে এই ইচ্ছা বা সংকল্প করলেই আপনার নিয়ত হয়ে যাবে।
ইমামের পেছনে পড়লে: ফরজ নামাজের সময় যদি ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তবে নিয়তের সাথে মনে মনে বলবেন, “এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে…“।
ভাষা কোনো বাধা নয়: আল্লাহ আমাদের মনের ভাষা জানেন। তাই আরবিতে বলতে কষ্ট হলে নিজের ভাষায় মনে মনে নিয়ত করে নামাজ শুরু করে দিন।
এশার নামাজের গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যদি মানুষ জানত এশা ও ফজরের নামাজের মধ্যে কী পরিমাণ সওয়াব রয়েছে। তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও জামাতে উপস্থিত হতো।” (সহীহ বুখারী)। এছাড়াও এশার নামাজ জামাতে পড়া সারা রাত নফল ইবাদত করার সমান সওয়াব বয়ে আনে।
এশার নামাজের অসাধারণ কিছু সুফল
এশার নামাজ মুমিনের আত্মিক প্রশান্তি ও পরকালীন সাফল্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এর সুফলগুলো হলো।
-
সারা রাত ইবাদতের সওয়াব: হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করল। সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নফল নামাজ পড়ল (আর যে ফজরও জামাতে পড়ল। সে যেন সারা রাত নামাজ পড়ল)।
-
মুনাফিকের তালিকা থেকে মুক্তি: ফজর ও এশার নামাজ মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্টকর। এই দুই নামাজ নিয়মিত আদায় করার মাধ্যমে নিজের ঈমানের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়।
-
নিশ্চিন্ত ও আরামদায়ক ঘুম: দিনের শেষ ইবাদতটি আল্লাহর স্মরণে করার মাধ্যমে মনে প্রশান্তি আসে। যা দুশ্চিন্তামুক্ত ও গভীর ঘুমে সহায়তা করে।
-
গুনাহের কাফফারা: এক নামাজ থেকে অন্য নামাজ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে হওয়া ছোট ছোট গুনাহগুলো এই নামাজের মাধ্যমে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
-
কঠিন কিয়ামতে আলোর সুসংবাদ: যারা রাতের অন্ধকারে মসজিদের দিকে হেঁটে গিয়ে এশার নামাজ আদায় করে। কিয়ামতের দিন তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা পূর্ণ নূরের বা আলোর ব্যবস্থা করবেন।